নাটোরের বাগাতিপাড়ার ক্ষিদ্র মালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা মুনছুর রহমানকে রাজকীয় বিদায় দিয়েছেন এলাকাবাসী। ৪১ বছর ইমামতি করার পর এলাকাবাসীর ভালোবাসায় আপ্লুত মাওলানা মুনছুর রহমান। আর স্থানীয়দের দাবি, ইমামের এ সংবর্ধনার মাধ্যমে বিদায়ের ঘটনা বাগাতিপাড়ায় এ প্রথম।
শুক্রবার (৩১ মে) দুপুরে জুমার নামাজের পর ক্ষিদ্র মালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ৭০ বছর বয়সী ইমামকে হাত ধরে ঘোড়ার গাড়িতে তুলে বিদায়ী সংবর্ধনা দেন এলাকাবাসী। ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার আগে শেষবারের মতো এলাকাবাসীর কাছে ভুল-ত্রুটির জন্য ক্ষমা চান তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইমামের রাজকীয় বিদায়ে ঘোড়ার গাড়ির আগে ও পেছনে মোটরসাইকেলের বহর ছিল। বহরটি ৫ কিলোমিটার দূরে ইসলামপুর গ্রামে তার বাড়িতে নিয়ে যান এলাকাবাসী।
জুমার নামাজের পর মসজিদের বিদায়ী ইমাম মুনছুর রহমানকে নানা ধরনের উপহার দেওয়ার পাশাপাশি নগদ ৬২ হাজার ৮০০ টাকা দেন দিয়েছেন মুসল্লিরা। ঘোড়ার গাড়িতে ওঠার আগে এলাকাবাসীর ভালোবাসায় অশ্রুসিক্ত হন মাওলানা মুনছুর রহমান।
এ ইমাম বলেন, ‘১৯৮২ সালে ক্ষিদ্র মালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগদান করেছি। ৪১ বছর ইমামতি করার সময় এলাকাবাসীদের ভালোবাসা পেয়েছি। বিদায় বেলায়ও তাদের ভালোবাসায় মুগ্ধ আমি। এলাকাবাসীর এমন ভালোবাসা কম মানুষের ভাগ্যে জোটে।’
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও ক্ষিদ্র মালঞ্চি এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজা বলেন, ‘বাগাতিপাড়া উপজেলায় এটিই প্রথম ঘটনা। তাদের উদ্যোগ দেখে বাগাতিপাড়ার সব মসজিদের ইমামকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় দেবে এমনটা প্রত্যাশা করি।’
ক্ষিদ্র মালঞ্চি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি আরশেদ আলী বলেন, ‘ইমাম সমাজের নেতা। অথচ ইমামদের বিদায়ে প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হয় না। তাই এ উদ্যোগ গ্রহণ করেন মুসল্লিরা।’
প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও জনপ্রিয় সাইট থেকে হুবহু কপি করা। তাই দায়ভার মুল পাবলিশারের। এরপরও কোন অভিযোগ বা ভিন্নমত থাকলে আমাদেরকে জানান আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব সমাধান করে নিতে। |