প্রচ্ছদ হেড লাইন ‘স্বামীকে হারিয়েছি, এখন ছেলেকে বাঁচাব কী করে’

‘স্বামীকে হারিয়েছি, এখন ছেলেকে বাঁচাব কী করে’

সারাদেশ: চট্টগ্রামে ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার চিকিৎসক এম কোরবান আলী মারা গেছেন। বুধবার (১০ এপ্রিল) সকালে নগরীর মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জানা যায়, গত শুক্রবার বিকেলে আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজ শাহ হাউজিং এলাকার জে লাইন দিয়ে যাচ্ছিলেন আলী রেজা। তখন দু’জন স্কুলছাত্র তার সাহায্য চায়। তাদের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মারধর করছিলেন।

তিনি ৯৯৯-এ কল দেন। পুলিশ এসে একজনকে ধরে নিয়ে যায়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় ইফতারি কিনতে বের হন আলী রেজা। তখন তাকে পেয়ে মারধর করতে থাকেন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন তার বাবা। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ইটের আঘাতে তার বাবা মাথায় গুরুতর আঘাত পান। প্রথম তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়।

গণমাধ্যমকে আলী রেজার মা পারভীর আক্তার বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়েছি। এখন ছেলেকে বাঁচাব কী করে।’ আলী রেজার ভাষ্য,‌‌‌ ‘কিশোর গ্যাং এর হাত থেকে আমাকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা মরে গেলেন। বাবাকে ছাড়া আমি বাঁচব কীভাবে। ওরা আবারও মারলে কে আমাকে বাঁচাতে আসবে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সবাই স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোলাম রসুল নিশানের অনুসারী।’ এ ঘটনায় গত শনিবার আলী রেজা বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আকবর শাহ থানায় মামলা করেন। এতে আসামি হিসেবে মো. সামির,

মো. রিয়াদ, সোহেল ওরফে বগা সোহেল, মো. আকিব, মো. অপূর্ব, মো. নিশান, মো. রাজু, মো. সাগর, মো. বাবু, মো. রাজু, মো. সংগ্রাম ও মো. সাফায়েতের নাম উল্লেখ করেন। এ ছাড়া আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতপরিচয় আসামি হিসেবে রাখা হয়। এলাকায় তাঁরা স্থানীয় যুবলীগ নেতা গোলাম রসুল নিশানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা পুলিশের রিমান্ডে রয়েছেন। এ বিষয়ে আকবর শাহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বলেন, ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।