
জাতীয়: অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত করতে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ডাকা হয়েছে তার স্ত্রী ও তিন মেয়েকেও।
মঙ্গলবার দুদকের তলবি নোটিশ বেনজীর ও তার স্ত্রী-কন্যাদের পাঠানো হয়েছে নিশ্চিত করেছেন সংস্থাটির এক কর্মকর্তা।
বেনজীরকে আগামী ৬ জুন হাজির হয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আর তার স্ত্রী জিশান মির্জা ও তিন মেয়েকে দুদকে হাজির হতে হবে ৯ জুন।
পুলিশ প্রশাসনের সাবেক এ প্রভাবশালী কর্মকর্তার স্থাবর-অস্থাবর বিপুল সম্পদ জব্দে আদালতের দুই দফা আদেশের পর তাকে দুদকে ডাকা হলো।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের অবৈধ সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, তিনি ও তার স্ত্রীর শত শত কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সারা দেশে আলোচনা ওঠে। এর বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটের পরপরই দুদক থেকে জানানো হয়, বেনজীর আহমেদের সম্পদের বিষয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে অনুসন্ধান শুরু করা হয়েছে।
গণমাধ্যমে নিজের সম্পদ নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোকে ‘অসত্য’ বলে দাবি করেছেন র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর।
মাঠে নেমেই দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা সাবেক আইজিপির বিপুল সম্পদের সন্ধান পান। প্রথমে বেনজীর, তার স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা সম্পদ জব্দ করতে আদালতে আবেদন করেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা।
সেদিন আদালত ৮৩টি দলিলের ৩৪৫ বিঘা জমি জব্দ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তাঁদের নামে থাকা ৩৩টি হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেন।
এরপর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে আরো সম্পদের হদিস। আদালতে আবার অনুমতি চাওয়া হলে রোববার সেসব সম্পদও অবরুদ্ধ ও জব্দ করতে আদেশ দেওয়া হয়।
বেনজীর আহমেদ পরিবারের সদস্যদের নামে রাজধানীর গুলশানে একদিনেই চারটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। বছরখানেক আগে ২০২৩ সালের ৫ মার্চ রাজধানীর অন্যতম দামি ও অভিজাত এলাকায় কেনা ফ্ল্যাটগুলোর দাম দেখানো হয় মাত্র দুই কোটি ১৯ লাখ টাকা।
তবে এবার সেই চারটি ফ্ল্যাটসহ তার ১১৯টি দলিল জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জব্দের তালিকায় আছে সঞ্চয়পত্র, শেয়ারবাজারে তিনটি বিও অ্যাকাউন্ট ও ১৯ প্রতিষ্ঠানের মালিকানা।






































