
বাবার স্বপ্ন ছিল তার ছেলে হবে সেনা সদস্য, কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে ভালো বেতনে একটি কোম্পানিতে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার ডোহাখোলার ইয়াসিন মিয়া।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ায় পাড়ি জমান তিনি। মস্কো থেকে প্রায় ১১,০০০ কিলোমিটার দূরে ওই কোম্পানিতে তিন মাস চাকরি করার পর, বাবার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ লাভ করেন।
গত ২৭ মার্চ ইউক্রেনের মিসাইল হামলায় থেমে যায় তার স্বপ্নের যাত্রা। ওই দিন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ইয়াসিন মিয়া। তার মৃত্যু খবর তার এক সহযোদ্ধা পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ইয়াসিনের পরিবার মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সহায়তা কামনা করেছে। তাদের দাবি, সরকার এবং হাই কমিশন যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয় এবং মরদেহটি তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। পরিবার জানিয়েছে, “বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে মরদেহটি আমাদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া যেন শুরু হয়।”
ইয়াসিনের বাবা আব্দুস সাত্তার শেখ, মা ফিরোজা খাতুন এবং ভাই রুহুল আমিনের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল দারিদ্রতা। একদিকে বাবার স্বপ্ন, অন্যদিকে পরিবারের আর্থিক সমস্যা ছিল তার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সবকিছু ছাপিয়ে, ইয়াসিন ঢাকা পল্লবীর সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজে ২০২২-২৩ সেশনের ডিগ্রি শিক্ষার্থী ছিলেন।
ইয়াসিনের মৃত্যুতে তার পরিবার এবং এলাকায় গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সরকার এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।”
প্রকাশিত/প্রচারিত সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও জনপ্রিয় সাইট থেকে হুবহু কপি করা। তাই দায়ভার মুল পাবলিশারের। এরপরও কোন অভিযোগ বা ভিন্নমত থাকলে আমাদেরকে জানান আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব সমাধান করে নিতে। |