
‘আমি গরিবের ছেলে। আমি টাকার লোভ সামলাতে পারিনি।’ চাঁদাবাজির মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে আদালতে এমন মন্তব্য করেছেন গুলশানে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার বহিষ্কৃত ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাক রিয়াদ। সাবেক এক সংসদ সদস্যের বাসা থেকে আনা ১০ লাখ টাকা গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর সঙ্গে ভাগ করে নেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
২৭ জুলাই ঢাকার গুলশান থানায় দায়ের করা চাঁদাবাজির মামলার আসামি তিনি। মামলায় সাত দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল রবিবার আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক রিয়াজ। জবানবন্দিতে নিজের চাঁদাবাজির ঘটনায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
২৬ জুলাই সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি শাম্মী আক্তারের গুলশানের বাসায় চাঁদাবাজি করতে গিয়ে হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন রিয়াদসহ ৫ জন।
জবানবন্দিতে আসামি রিয়াদ জানান, বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিবাদী লোকজন গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে পুলিশকে সহযোগিতা করেছেন। গত ১৭ জুলাই রাতে তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র সহসভাপতি জাকির হোসেন মঞ্জুর ফোনের মাধ্যমে গুলশান জোনের ডিসির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তখন তিনি ডিসিকে জানান, গুলশান থানার সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। পরে ডিসি নিজে জানান যে, বিষয়টি তিনি গুলশান থানার ওসিকে অবগত করেছেন।
এরপর রাত ২টার দিকে তিনিসহ মঞ্জু, জানে আলম অপু, সাবাব হোসেন, আতিক শাহরিয়ার, সাদাকাউন সিয়াম, তানিম ওয়াহিদ ও আতিকের সঙ্গে কয়েকজন মিলে থানায় যান। তখন ওসি জানান, এত রাতে গুলশান সোসাইটিতে অভিযান চালানো যাবে না এবং ফজরের আযান পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পরে গুলশান থানার একটি টিম তাঁদের সঙ্গে দেওয়া হয়। এরপর তাঁর (রিয়াদ) নেতৃত্বে একটি দল শাম্মীর বাড়িতে যায়। গুলশানের থানার ওসি (তদন্ত) নিজে অভিযানের নেতৃত্ব দেন।
তবে শাম্মীকে বাসায় না পেয়ে সকাল সাড়ে ৭টায় তাঁরা ফিরে আসেন।
জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, “জানে আলম অপু ওই বাসা থেকে শাম্মীর এয়ারপড নিয়ে আসেন। পরে তাঁরা দুজন ওই দিন সকাল ১০টায় এয়ারপড ফেরত দিতে ওই বাসায় যান। বাসায় গিয়ে তাঁরা এয়ারপড ফেরত দেন। তখন অপু পানি খাওয়ার কথা বলে ওই বাসায় প্রবেশ করেন। অপু বাসায় থাকা শাম্মীর স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরকে বলেন, ‘শাম্মী বাসায় আছেন। আমরা তাঁকে পুলিশে দিয়ে দেব।’ তখন আবু জাফর ভয় পেয়ে তাঁদের টাকা অফার করেন। তখন অপু ৫০ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু এত টাকা বাসায় নেই বলে জানান তিনি। পরে ১০ লাখ টাকা নিয়ে তাঁরা চলে আসেন। ওই টাকা দুজন সমান ভাগ করে নেন। গত ২৬ জুলাই বিকেলে চাঁদার বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায় করতে ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সিয়াম, সাদমানকে ওই বাসায় পাঠান। পুলিশ তাঁকেও ওই বাসায় যেতে বলেন। তখন পুলিশের কথায় ওই বাসায় যান। তখন পুলিশ এসে টাকাসহ হাতেনাতে আমাদের গ্রেপ্তার করে।”
গতকাল রবিবার রিয়াদসহ চার আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় রিয়াদ স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোখলেছুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করতে আবেদন করেন। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহের আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ছাড়া অন্য তিন আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াদুর রহমানের আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। কারাগারে যাওয়া অন্যরা হলেন মো. ইব্রাহিম হোসেন, সাকাদাউন সিয়াম ও সাদমান সাদাব।