
দেশজুড়ে: গত ১২ মার্চ ভারত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহ। এরপর সেই জাহাজের ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে জিম্মি করে সোমালিয়া উপকূলে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। সেদিন জাহাজটি জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘটনা জানিয়ে ২২ বার বার্তা পাঠিয়েছিলেন ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ। জিম্মি হওয়ার দিনে (১২ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জাহাজের মালিক কেএসআরএমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং এর প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিমের কাছে এসব বার্তা পাঠান তিনি।
ওই বার্তায় বলা হয়, দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগে সাহায্যের বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই বার্তায় সাড়ে দেয়নি কেউই। ওই সময় এমভি আবদুল্লাহর পাশে আরও আট থেকে নয়টি জাহাজ ছিল। দস্যুরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার পর বিকেল ৫টায় সোমালিয়া উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করার কথা জানানো হয় বার্তায়।
উল্লেখ্য, সোমালিয় জলদস্যুরা গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি করে এমভি আবদুল্লাহকে। এ সময় জাহাজটিতে ২৩ জন নাবিক ছিল। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর—পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙ্গর করে। জাহাজটি বর্তমানে উপকূলের প্রায় এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে নোঙ্গর করা রয়েছে। জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য মালিকপক্ষের সাথে দস্যুদের একজন ইতিমধ্যে কথা বলেছে। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। এর আগে একই মালিক গ্রুপের এমভি জাহান মনিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। সোমালিয় জলদস্যুরা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৮টি জাহাজ জিম্মি করেছিল। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিম্মি করেছিল ৩৫৮টি জাহাজ।






































